পুরুলিয়াঃ পুত্র সন্তানের লাভের আসায় সূচনা হওয়া পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর থানার অন্তর্গত শিয়ালডাঙা গ্রামের আচার্য পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো আজও আকর্ষণীয় জেলা সহ রাজ্যবাসীর কাছে।
জানা যায়,আচার্য পরিবারে আদি পুরুষ হারাধন আচার্য ছিলেন পঞ্চকোট রাজ সভার বৈদন্তিক পন্ডিত ও অধ্যাপক।ইংরেজি ১৮৭১ সাল ও ১২৭৮ বঙ্গাব্দে পুজোর সূচনা করেন তিনি।কথিত রয়েছে,হারাধন আচার্য সংসার জীবনে প্রবেশের পর একে একে ভূমিষ্ঠ হয় তার ১৯ টি কন্যাসন্তান।তখন বংশ রক্ষার্থে তিনি পুত্র সন্তানের কামনায় এই পুজোর সূচনা করেন।তারপরেই পুজোর দু’বছর পর তাঁর একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ হয়।আর সেই থেকে মহা ধুমধামে বংশ পরম্পরায় আজও গ্রামে চলে আসছে আচার্য পরিবারে এই জগদ্ধাত্রীর পুজো।এবার এই পুজো ১৪৮ বছরে পদার্পণ করল।
বর্তমানে পুজোর উদ্দোক্তা মদের মধ্যে অজয় কুমার আচার্য, ধ্রুবলাল আচার্য বলেন,জগৎ আচার্য এরা বলেন,এখানে দেবীর শাক্ত মতে পুজো করা হয়।এক চালায় তৈরি হয় প্রতিমা।সিংহবাহনা মায়ের দু’পাশে থাকেন তাঁর দুই সখী জয়া ও বিজয়া। সঙ্গে থাকেন ঋষি মার্কণ্ডেয় ও দেবর্ষি নারদ।চারদিন ধরে চলে পুজো।শিয়ালডাঙা গ্রামের পুজোর আর একটি বিশেষ আকর্ষণ হল নবমীর দিন একটি।বড় গোলাকার উনানের ভিতর ছোট ছোট ২২ টি উনান করে, তাতে একযোগে ২২ টি মাটির হাঁডি বসিয়ে মায়ের ভোগ রান্না হয়।একিসঙ্গে মায়ের নিমিত্তে বলি দেওয়া হয় একাধিক ছাগ বলি।নবমীর দিন গ্রামে কোনও বাড়ির উনানে হাঁড়ি চড়ে না।ওইদিন সবাই মায়ের প্রসাদ পান ভোগ হিসেবে।একাদশীর দিন বাদ্য সহকারে বিপুল উৎসাহে মায়ের বিসর্জন দেওয়া হয়।
এছাড়াও জেলা জুড়ে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হচ্ছে জগদ্ধাত্রী পুজো। রেল শহর আদ্রায় প্রগতি ক্লাবের উদ্যোগে জাঁকজমকভাবে আরম্ভ হয়েছে সাত দিনের জগদ্ধাত্রী পুজো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.