গত 7ই নভেম্বর ভোর রাতে কালীপুজো পুজো দিয়ে ফেরার পরে বাড়িতেই গুলিবিদ্ধ হন তৃণমূল কর্মী পিন্টু সিনহা। 8 তারিখ এসএসকেএম এ মৃত্যু হয় এই তৃণমূল কর্মীর। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। অভিযোগ ওঠে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তৃণমূল কর্মীকে খুন করেছে।সেই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করার পরেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুঞ্চা থানার পুলিশ।গতকাল পুঞ্চা থানার পুলিশ পারুই হাটতলা থেকে একজন ও বলরামপুর বাজার থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে। দুজনেরই বাড়ি পুঞ্চা থানার পারুই গ্রামে। আজ তাদের আদালতে তোলা হয়। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। ধৃতদের নাম জয়ন্ত গড়াই ও মানস মাহাতো। এদের মধ্যে জয়ন্ত গোড়ায় বিজেপি কর্মী।পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে পুরনো শত্রুতার জেরে এই জয়ন্ত গড়াই পিন্টু সিনহা কে খুন করার জন্য মানস মাহাতো কে সুপারি কিলার হিসাবে নিয়োগ করে। তবে এদের সঙ্গে এই ঘটনায় এলাকারই যুবক সঞ্জয় ভূঁইয়ার যোগ রয়েছে বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ সঞ্জয়ের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।ঘটনার দিন ভোর বেলায় দুষ্কৃতীরা অপেক্ষা করে পিন্টু সিনহার জন্য। পুজো দিয়ে ফেরার পর বাড়িতে কাজ করার সময় অন্ধকার থেকে গুলি করে পিন্টু সিনহাকে।ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই গ্রাম থেকেই দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার ধৃত জয়ন্ত ও মানুষ দু'জনকেই আজ পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।এই ঘটনার সাথে আর কে বা কারা যুক্ত। ঘটনায় যে অস্ত্রটি ব্যবহার করা হয়েছে সেই অস্ত্র টি কোথা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে সেটা জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। পুলিশ মনে করছে এই ঘটনার সাথে আরো কয়েকজনের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হেফাজতে নিয়ে রিকনস্ট্রাকশন করে গোটা ঘটনাটি জানার চেষ্টা করবে পুলিশ। ঘটনার পরেই তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি এই পারুই গ্রামে আসেন এবং পুঞ্চা একটি জনসভা করেন সেই জনসভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনে। পরে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সায়ন্তন বসুর নেতৃত্বে পুঞ্চা শহরে মিছিল করে জেলা বিজেপি। এবং দাবি করেন তাদের কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসাচ্ছে পুলিশ। বিজেপির পুরুলিয়া জেলা সম্পাদক বিবেক রাঙ্গা দাবি করেন মিথ্যে মামলায় তাদের সক্রিয় কর্মী জয়ন্ত গড়ায় কে ফাঁসানো হয়েছে। পুরুলিয়া জেলার সভাধিপতি সহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন আমরা প্রথমে দাবি করেছিলাম আমাদের সক্রিয় কর্মী পিন্টু সিন্হা কে খুন করেছে বিজেপি নেতা ও কর্মীরা। পুলিশ তার নিরপেক্ষ তদন্তে এটাই প্রমাণ হয়েছে। খুব শিগ্রই আরো অনেক বিজেপি নেতাকর্মীরা গ্রেফতার হবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.