ঝাড়খন্ড সীমানায় চাপ বাড়াচ্ছে মাওবাদীরা।আবার বাংলায় ঢোকার ছক কষছে মাওবাদীরা। কিন্তু বাংলার মাটিতে এক চুল জমি ছাড়তে নারাজ কেন্দ্রীয় বাহিনী সি আর পি এফ।ঝাড়খণ্ডের মাওবাদীদের সাথে বাংলার মোতায়েম সি আর পি এফের লড়াইয়ের এখন মূল অস্ত্র জনসংযোগ। তাই তো পুরুলিয়ার বান্দওয়ান থানার ঝাড়খন্ড সিমানার লট ঝরনা এবং গোলকাটা এই দুই গ্রামকে দত্তক নিলেন সি আর পি এফের ১৬৯ ব্যাটালিয়ান।এই গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের শুভ সূচনা করতে ছুটে এলেন সি আর পি এফের আই.জি(পশ্চিম বঙ্গ) এস.রবীন্দ্রন। পুরুলিয়ার বান্দওয়ান। ২০০৩ সাল থেকেই মাওবাদী কার্যকলাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল বান্দওয়ান।গুড়পানা,দুলুকডি,কুচিয়া গোলকাটা,লট ঝরনা,ভোমরাগড়ার নাম শুনে আজও আঁতকে উঠে মানুষ।সেই সময়ে আসা মাও দমনে সি আর পি এফের ১৬৯ ব্যাটালিয়ান আজও রয়েছে বান্দওয়ানে।আজ সেই সি আর পি এফ ঝাড়খন্ড সীমানার ঘন জঙ্গল লাগোয়া লট ঝরনা এবং গোলকাটা গ্রামকে দত্তক নিলো।বছর খানেক অতীতে কাঁটাগোড়া গ্রামকেও দত্তক নিয়েছে সি আর পি এফের এই ব্যাটেলিয়ান।গ্রাম গুলিতে ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যাবস্থা,মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ,বাবুই দড়ির মেশিন প্রদান,ছেলেদের সাইকেল মোটর সাইকেল পাংচার সারানোর প্রশিক্ষণ থেকে গ্রামে বিয়ে বাড়ি বা শ্রাদ্ধ বাড়ির অনুষ্ঠানের জন্য ক্যাটারিং সামগ্রী প্রদান করে একবার সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ত নিল দীর্ঘ সময় ধরে বান্দওয়ানের একবারে প্রত্যন্ত এলাকায় ক্যাম্প করে থাকা এই কেন্দ্রীয় বাহিনী।সি আর পি এফের আই জি এস. রোবীন্দ্রন দুটি গ্রামেই শনিবার দিন ভর ছুটে বেড়ালেন। ফিতে কেটে শুধু প্রকল্পের উদ্ভিধনই নয় আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামে গিয়ে দেখলেন সাঁওতালি নাচ। সকলের সাথে হাত মেলালেন,খোজঁ খবর নিলেন,উৎসাহ দিলেন স্বাবলম্বী হওয়ার। শেষে দত্তক নেওয়া দুই গ্রাম লট ঝরনা এবং গোলকাটা গ্রামের মেয়েদের মধ্যে আয়জিত প্রীতি ফুটবল ম্যাচেরও উদ্ভাধন করলেন।খেলা শেষে ট্রফি এবং খেলার সামগ্রী তুলে দিয়ে আই.জি.বার্তা দিলেন সি আর পি এফ গ্রামের মানুষের সাথে এই সম্পর্ক অটুট রাখবে। আই.জি.এস.রবীন্দ্রন জানান। এটা সিভিক একশন প্রোগ্রাম।গ্রাম বাসীদের সাথে জনসংযোগের জন্য এই কর্মসূচি।এই কর্মসূচিতে আমরা গ্রামকে দত্তক নিয়ে শিক্ষা,সাস্থ্য,পানীয় জল,কর্মসংস্থান সহ সামগ্রিক উন্নয়ন করে থাকি। বর্তমানে মাওবাদী অবস্থান নিয়ে আই.জি. এস.রবীন্দ্রন বলেন। এখন এই সব এলাকা শান্ত রয়েছে।তবে মাওবাদীদের অবস্থান নজরে আসছে।আমারও সজাগ আছি।মাওবাদীরা এই এলাকার ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। এদের আটকানোর জন্য বেঙ্গল পুলিশকে সাথে নিয়ে যা পদক্ষেপ নেওয়ার নেব। আই.জি.বলেন প্রতিটি রাজ্যের সীমানা,বাঙলা ঝাড়খন্ড সীমান হউক বা উড়িষ্যা ঝাড়খণ্ড সীমান বা উড়িষ্যা ছত্তিস গড় সীমানা প্রতিটি রাজ্যের সীমানায় মাওবাদী কার্যকলাপ থাকে।তাই আমাদের সীমানায় সজাগ থাকতেই হয়।লোকসভা নির্বাচনে মাওবাদী কার্যকলাপের প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে বলেন এখন নির্বাচন দেরি আছে। তখন দেখা যাবে।তবে তিনি বলেনএই জনসংযোগ কর্মসূচির ফলে সিমানার গ্রামের সাথে বাহিনীর ভালো সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। জনসংযোগ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।ডি আই জি(মেদিনীপুর,অপেরেশন)এ.কে.চতুর্বেদী,সি আর পি এফ ১৬৯ব্যাটেলিয়ানের সি.ও.বি.কে.চৌরাশিয়া,এ.সি. ও মনোজ কুমার পান্ডে সহ আরো অনেকে।
সি.আর.পি.এফের এই কর্মসূচিতে গ্রাম বাসীরাও খুশি।একসময় এই গ্রামবাসীদের ঢাল করেই মাওবাদীরা প্রভাব বিস্তার করেছিল।চলতো একের পর এক অপারেশন।সেই গ্রামগুলিকে দত্তক নিয়ে পুরোপুরি লালন পালনের দায়িত্ত নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী।আগামীদিনে এইসব গামেই শাবালক হয়ে সি আর পি এফের পাশেই দাঁড়াবে। মাওবাদীদের আটকাতে এর থেকে শক্ত ঢাল আর কিছুই হতে পারেনা বলে দাবি সি আর পি এফের শীর্ষ কর্তাদের। আর এই জনসংযোগ কর্মসূচি চলতে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Blogger দ্বারা পরিচালিত.